Exam - 50 Bangla: Topic: কারক-বিভক্তি, ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়াপদ, বাচ্য ও উক্তি।
১) ‘জিজ্ঞাসিবে জনে জনে’— ‘জনে জনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তায় ৭মী
- কর্মে ৭মী
- করণে ৭মী
- অপাদানে ৭মী
• 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' এখানে 'জনে জনে' কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি।
- এখানে কাকে জিজ্ঞাসিবে?—জনে জনে। তাই ‘জনে জনে’ ক্রিয়ার কর্ম।
- এখানে জন + এ = জনে; অর্থাৎ ‘এ’ সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২) 'শাহেলা গান গাইছে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
- সাধারণ ভবিষ্যৎ
- ঘটমান অতীত
- ঘটমান বর্তমান
- পুরাঘটিত বর্তমান
• 'শাহেলা গান গাইছে।' বাক্যটি ঘটমান বর্তমান কাল নির্দেশ করছে।
• বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ বর্তমান কাল।
২. ঘটমান বর্তমান কাল।
৩. পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।
• সাধারণ বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।
• ঘটমান বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখনও চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- শাহেলা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে ঘটমান বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।
• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফল বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
• বর্তমান অনুজ্ঞা: বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩) ‘তিলে তৈল আছে’— ‘তিলে’ কোন কারক?
- অপাদান কারক
- করণ কারক
- অধিকরণ কারক
- কর্ম কারক
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান): তিলে তৈল আছে(তিলের সারা অংশব্যাপী)।
• অধিকরণ কারকের উদাহরণ -
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি ।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি ।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি ।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪) ক্রিয়ার মূল অংশকে কী বলা হয়?
- বিভক্তি
- প্রত্যয়
- ধাতু
- যোজক
ধাতু:
• ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বা প্রকৃতি বলে৷
- প্রকৃতি দুই প্রকার৷
যথা:
(ক) নামপ্রকৃতি ও
(খ) ক্রিয়াপ্রকৃতি৷
(ক) নামপ্রকৃতি : নামপদের মূল অংশকে বলে নামপ্রকৃতি। 'ছেলেরা’ (ছেলে + রা) শব্দের মূল অংশ ‘ছেলে’ একটি নাম। তাই একে নামপ্রকৃতি বলা যায়। আর ‘রা’ হল বিভক্তি।
(খ) ক্রিয়া-প্রকৃতি : ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলে ক্রিয়াপ্রকৃতি। 'চলা’ (চল্ + আ) শব্দের মূল অংশ 'চল্' হল ক্রিয়াপ্রকৃতি, আর ‘আ’ হল বিভক্তি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৫) ‘ব্যায়ামে শরীর ভালো থাকে’— ‘ব্যায়ামে’ কোন কারক?
- কর্ম কারক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক
• ‘ব্যায়ামে শরীর ভাল থাকে’ - এই বাক্যে কিসের দ্বারা বা কী উপায়ে শরীর ভাল থাকে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ব্যায়ামে’ এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি ‘এ’ যুক্ত হয়েছে।
• করণ কারক:
• করণ শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
• ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন – নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ – কলম)
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি - ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
(খ) তৃতীয়া বা ধারা বিভক্তি - লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
(গ) সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি - ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
• তে বিভক্তি - এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা। '
• য় বিভক্তি - এ সুতায় কাপড় হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)
৬) শিক্ষক বললেন, “পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।”— এর পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
- শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
- শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরত।
- শিক্ষক বললেন পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
- শিক্ষক বলেছিলেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
নিয়ম:
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে যদি কোনো চিরন্তন সত্য বা অভ্যাসগত কর্ম থাকে, তবে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময় উদ্ধৃতি চিহ্নের ভেতরের অংশের কালেরকোনো পরিবর্তন হয় না।
- এখানে "পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে" একটি চিরন্তন সত্য বাক্য।
- তাই পরোক্ষ উক্তি করার সময় শুধু কমা (,) ও উদ্ধৃতি চিহ্ন (" ") তুলে দিয়ে 'যে' বসাতে হবে এবং বাকি অংশ অপরিবর্তিত থাকবে।
- প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।”
- পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৭) ‘কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।’ এই বাক্যে ‘কান্নায়’ কোন কারক?
- করণ কারক
- অধিকরণ কারক
- অপাদান কারক
- কর্ম কারক
• 'কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়' - এখানে 'কান্নায়' ভাবাধিকরণে ৭মী।
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
- আধার (স্থান) : আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
- কাল (সময়) : প্রভাতে সূর্য ওঠে।
• অধিকরণ তিন প্রকার :
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।
• ভাবাধিকরণ:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন: সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮) ‘আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।’- বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
- পুরাঘটিত অতীত কাল
- ঘটমান অতীত কাল
- নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
- অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।
- আমি রোজ আসতাম।
• অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন:
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।
২. ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।
৩. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯) ‘সব ঝিনুকে মুক্তা মেলে না।’ এই বাক্যে ‘ঝিনুকে’ কোন কারক?
- অধিকরণ কারক
- অপাদান কারক
- করণ কারক
- কর্ম কারক
• 'সব ঝিনুকে মুক্তা মেলে না।' এই বাক্যে 'ঝিনুকে' হলো অপাদান কারক।
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০) ‘তিনি হয়তো এসে থাকবেন’— এটি কোন কাল?
- পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
- সম্ভাবক ভবিষ্যৎ
- ঘটমান ভবিষ্যৎ
- সাধারণ ভবিষ্যৎ
• 'তিনি হয়তো এসে থাকবেন' - বাক্যটি পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল।
• পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ:
- ক্রিয়ার রূপ: যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কালবোধক শব্দ ব্যবহার করে তা বোঝাতে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল হয়।
- পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রকাশের জন্য মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়া বিভক্তি-ইয়া/এ যোগ করে এবং থাক্ ও গম্ ধাতুর সঙ্গে সাধারণ ভবিষ্যতের ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত করে যৌগিক ক্রিয়াপদ তৈরি হয়। যথা-গিয়ে থাকব/যাইয়া থাকিব।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১) ‘শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।" বাক্যে ‘গোঁফে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তায় ৭মী
- করণে ৭মী
- অপাদানে ৭মী
- অধিকরণে ৭মী
• "শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।" - বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গোঁফে'। এবং 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
তাই, এখানে 'গোঁফে' করণকারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১২) 'গিয়েছিলাম' কোন কালের উদাহরণ?
- সাধারণ অতীত
- নিত্য অতীত
- পুরাঘটিত অতীত
- পুরাঘটিত বর্তমান
• 'গিয়েছিলাম'- পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ।
• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- গত বছর আমি কলকাতা গিয়েছিলাম।
• নিত্য অতীত কাল:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে এমন বােঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন-
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।
• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায় তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
• সাধারণ অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায় তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন:
তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
• পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত
হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৩) ‘আমার যাওয়া হলো না’— বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
- কর্মবাচ্য
- ভাববাচ্য
- কর্তৃবাচ্য
- কর্ম-কর্তৃবাচ্য
বাচ্য:
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
⇒ বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার প্রকাশভঙ্গির ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার:
১. কর্তাবাচ্য:
- ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে।
• ঝরনা ছবি আঁকে।
• আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
• শরতে শিউলি ফোটে।
২. কর্মবাচ্য:
- ক্রিয়া কর্মকে অনুসরন করে।
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
• চিঠিটা পড়া হয়েছে।
৩. ভাববাচ্য:
- ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে।
• আমার যাওয়া হলো না।
• কোথা থেকে আসা হলো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪) কর্ম কারকের উদাহরণ কোনটি?
- গরিবকে সাহায্য করো।
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- জমি থেকে ফসল পাই।
- বাবা বাড়িতে আছেন।
• 'গরিবকে সাহায্য করো।' কর্ম কারক।
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
উল্লেখ্য,
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- গরিবকে সাহায্য করো।
অন্যদিকে,
• "ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।" - সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ।
• "জমি থেকে ফসল পাই।" - অপাদান কারক।
• "বাবা বাড়িতে আছেন।" - অধিকরণ কারক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৫) "বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।" - বাক্যটি কোন বাচ্য?
- কর্তৃবাচ্য
- ভাববাচ্য
- কর্মবাচ্য
- কর্মকর্তৃবাচ্য
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
অন্যদিকে,
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন:
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
• চিঠিটা পড়া হয়েছে ।
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
- যেমন:
• আমার যাওয়া হল না।
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন -
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৬) 'কোথাও আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা।' কোন কারক?
- কর্ম কারক
- কর্তৃ কারক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
• এখানে হারিয়ে যাওয়ার কাজটি কার দ্বারা ঘটছে বা কার জন্য নিষেধ নেই, তা বোঝাতে 'আমার' ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এটি কর্তৃকারক।
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা – কর্তৃকারক)
মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭) ‘রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক গীতাঞ্জলি রচিত হয়েছে’— বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
- কর্তৃবাচ্য
- কর্মবাচ্য
- ভাববাচ্য
- কর্ম-কর্তৃবাচ্য
• ‘রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক গীতাঞ্জলি রচিত হয়েছে’— বাক্যটি কর্ম বাচ্যের উদাহরণ
• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন:
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
• চিঠিটা পড়া হয়েছে ।
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৮) ‘কোথা থেকে আসা হচ্ছে?’— এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
- ভাববাচ্য
- কর্মবাচ্য
- কর্তৃবাচ্য
- কর্ম-কর্তৃবাচ্য
• 'কোথা থেকে আসা হচ্ছে?' - ভাববাচ্য।
• বাচ্য:
- বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় 'বাচ্য'।
- বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
(১) কর্তৃবাচ্য,
(২) কর্মবাচ্য ও
(৩) ভাববাচ্য।
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন -
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯) "মিনার চেয়ে লীনা বড়।" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্ম কারকে ৫মী
- কর্তৃ কারকে ৫মী
- করণ কারকে ৫মী
- অপাদান কারকে ৫মী
• "মিনার চেয়ে লীনা বড়।" - বাক্যটিতে নিম্নরেখ অংশটি অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]
- গাছ থেকে কাঠ পাই। (গাছ থেকে কাঠ উৎপন্ন হয়েছে। তাই গাছ থেকে অপাদান কারক)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, মাহবুবুল আলম। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
২০) প্রত্যক্ষ উক্তির ‘এখানে’ শব্দটি পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত হয়ে কী হয়?
- ঐখানে
- যেখানে
- ওখানে
- সেখানে
• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
প্রত্যক্ষ -- পরোক্ষ।
• এখন - তখন।
• আগামীকাল - পরদিন ।
• ইহা - তাহা।
• গতকাল - আগেরদিন।
• আজ - সেদিন।
• ওখানে - ঐখানে।
• গতকল্য - পূর্বদিন।
• এখানে - সেখানে।
• এই - সেই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২১) ‘আমি পড়তে বসেছি।’ - এখানে ‘পড়তে’ কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
- সমাপিকা ক্রিয়া
- অসমাপিকা ক্রিয়া
- প্রযোজক ক্রিয়া
- মিশ্র ক্রিয়া
‘আমি পড়তে বসেছি।’ — এখানে ‘পড়তে’ একটি অসমাপিকা ক্রিয়াপদ।
• ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার।
যথা-
• সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
ভালাে করে পড়াশােনা করবে।
অনুরূপভাবে: আমি ভাত খাচ্ছি।
• অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া বাক্যে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না এবং অন্য কোনো ক্রিয়ার সহায়তা নিয়ে বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করে, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন,
– ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।
- "রাত বেশি হয়ে যাওয়ার আগে আমরা খেয়ে নিলাম।"
(এখানে "খেয়ে" অসমাপিকা ক্রিয়া, কারণ এটি একা সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারছে না।)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২২) তিনি বললেন, “আমি আজই ঢাকা যাচ্ছি।”— এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
- তিনি বললেন যে, তিনি আজই ঢাকা যাচ্ছেন।
- তিনি বললেন যে, তিনি সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।
- তিনি বললেন তিনি সেদিন ঢাকা যাবেন।
- তিনি বলেছিলেন যে, তিনি আজ ঢাকা যাচ্ছেন।
তিনি বললেন, “আমি আজই ঢাকা যাচ্ছি।”— এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি: তিনি বললেন যে, তিনি সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।
উক্তি পরিবর্তন:
- আশ্রিত খণ্ডবাক্যের ক্রিয়ার কাল পরোক্ষ উক্তিতে সব সময় মূল বাক্যের ক্রিয়ার কালের উপর নির্ভর করে না।
- অর্থ অনুযায়ী কাল পরিবর্তন করা হয়।
• উদাহরণ—
• প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি লিখেছিল, “শহরে খুব গরম পড়েছে।”
• পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি লিখেছিল যে শহরে খুব গরম পড়েছিল।
• প্রত্যক্ষ উক্তি: করিম বলেছিল, “আমি বাজারে যাচ্ছি।”
• পরোক্ষ উক্তি: করিম বলেছিল যে সে বাজারে যাচ্ছে।
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মনসুর বলল, “আমি ঢাকা যাব।”
• পরোক্ষ উক্তি: মনসুর বলল যে সে ঢাকা যাবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩) 'বিশ হতো যদি একশ বিশ'। - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
- ঘটমান অতীত
- সাধারণ অতীত
- পুরাঘটিত অতীত
- নিত্যবৃত্ত অতীত
• 'বিশ হতো যদি একশ বিশ'। - বাক্যটি নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ।
• অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই অতীত কাল।
• সাধারণ অতীত:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
• নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
• নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
- আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো। (কামনা প্রকাশে)
- 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'। (অসম্ভব কল্পনায়)
- তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো। (সম্ভাবনা প্রকাশে)
⇒ ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
⇒ পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪) "সে চোখে মুখে কথা বলে।" - কোন কারক?
- কর্ম কারক
- কর্তৃ কারক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
• "সে চোখে মুখে কথা বলে।" বাক্যটিতে "চোখে মুখে" করণ কারক (করণে ৭মী)।
- ক্রিয়াপদকে "কী দিয়ে" বা "কী উপায়ে" প্রশ্ন করলে করণ কারক পাওয়া যায়।
- এখানে "কথা বলে" (ক্রিয়া)-কে যদি প্রশ্ন করা হয়, সে কী উপায়ে বা কীসের সাহায্যে কথা বলে? উত্তর আসে: চোখে মুখে (চোখ ও মুখের অভিব্যক্তির সাহায্যে)।
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি।
• যেমন- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।'
- এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'।
- সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, মাহবুবুল আলম।
২৫) রহিম বলল, “আমি এখন বাজারে যাচ্ছি।”— এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
- রহিম বলল যে, সে এখন বাজারে আসছে।
- রহিম বলল যে, সে তখন বাজারে যাচ্ছিল।
- রহিম বলল যে, সে তখন বাজারে আসবে।
- রহিম বলল যে, সে এখন বাজারে যাচ্ছে।
• উক্তি পরিবর্তন :
- প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর করার সময় কাল এবং কিছু নির্দিষ্ট শব্দের পরিবর্তন করতে হয়।
- সর্বনামের পরিবর্তন: প্রত্যক্ষ উক্তির ‘আমি’ পরোক্ষ উক্তিতে বক্তা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়ে ‘সে’ হয়েছে।
- নিকটবর্তী শব্দের দূরত্ববাচক রূপ: নিয়ম অনুযায়ী ‘এখনই’ পরিবর্তিত হয়ে ‘তখনই’ হয়।
- ‘আসছি’ (আসা) পরিবর্তিত হয়ে ‘যাচ্ছে’ (যাওয়া) হয়।
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: রহিম বলল, “আমি এখন বাজারে যাচ্ছি।”
পরোক্ষ উক্তি: রহিম বলল যে, সে তখন বাজারে যাচ্ছিল।
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
- পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।








