Exam - 28 Bangla: Topic: বাংলা সাহিত্য প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগ (গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ও তাদের সাহিত্যকর্ম), কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধী (সকল যুগ), পত্রিকা, ভাষা-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্য।
১) চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ কে আবিষ্কার করেন?
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- প্রবোধচন্দ্র বাগচী
- কীর্তিচন্দ্র
- মুনিদত্ত
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) 'জরাসন্ধ' নামে সাহিত্য রচনা করতেন কোন সাহিত্যিক?
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
- মোজাম্মেল হক
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
- নীহাররঞ্জন রায়
- 'জরাসন্ধ' নামে সাহিত্য রচনা করতেন চারুচন্দ্র চক্রবর্তী।
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তী:
- জন্ম: ২৩ মার্চ ১৯০২ সাল।
- তাঁর ছদ্মনাম জরাসন্ধ। এই নামে তিনি বেশি পরিচিত।
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী পেশাগত জীবনে একজন কারা-কর্মকর্তা ছিলেন।
- দীর্ঘ ৩০ বছর আলীপুরসহ ভারতের বিভিন্ন কারাগারে দায়িত্ব পালনের সময় কয়েদিদের জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেন।
- সেই বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করেই তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সাড়া জাগানো গ্রন্থ হলো 'লৌহকপাট'। এটি চার খণ্ডে প্রকাশিত একটি কালজয়ী রচনা।
- মৃত্যু: ২৫ মে ১৯৮১ সাল।
তার রচিত উপন্যাস:
- তামসী,
- ন্যায়দণ্ড,
- ছায়াবৃত,
- নিঃসঙ্গ পথিক (আত্মজীবনীমূলক)
তথ্যসূত্র: লৌহকপাট উপন্যাস ও বাংলা কারাসাহিত্য, আদিত্য চৌধুরী।
৩) প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
- সমাচার দর্পণ
- সংবাদ প্রভাকর
- দিকদর্শন
- বঙ্গদর্শন
• 'সমাচার দর্পণ':
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া ও
- গভর্নমেন্ট গেজেট।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪) ভাষা আন্দোলনভিত্তিক 'কবর' নাটকটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
- ১৯৫২ সালে
- ১৯৫৩ সালে
- ১৯৬৬ সালে
- ১৯৭১ সালে
• 'কবর' নাটক:
- ‘কবর’ নাটকটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
- এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক।
- ১৯৫৩ সালে জেলখানায় বন্দি থাকা অবস্থায় বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের জন্য মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ করেন।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতেই মুনীর চৌধুরী ‘কবর’ নাটক রচনা করেন।
- তিনি মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' নাটকে অনুপ্রাণিত হয়ে 'কবর' নাটকটি রচনা করেন।
- এটি ১৯৬৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: হাফিজ ও মুর্দাফকির।
• মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।
• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'কবর' নাটক; ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫) চর্যাপদের কোন কবি নিজেকে 'বাঙালি' বলে পরিচয় দিয়েছেন?
- লুইপা
- ভুসুকুপা
- শবরপা
- কাহ্নপা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবনকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।
• “আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলী/ নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী” — ভুসুকুপার এই উক্তিটির মাধ্যমে তিনি নিজেকে বাঙ্গালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।
• তার কবিতার লাইনের আধুনিক রূপ - আজ ভুসুকু বাঙ্গালি হইলো।
অন্যদিকে,
• কাহ্নপা চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ (১৩টি) রচনা করেন।
• চর্যাপদের ১ম পদের রচয়িতা লুইপা।
• শবরপা এর জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- সেই সূত্রে শবরপা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি 'বাংলা দেশে'র লোক।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬) 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটি সমাপ্ত করেন কে?
- মাগন ঠাকুর
- আলাওল
- সৈয়দ সুলতান
- আব্দুল হাকিম
• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- আরাকান রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।
- তিনি লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খন্ডে রচিত।
- রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধার্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
- পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
৭) 'সবুজপত্র' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
- ১৯১৪ সালে
- ১৯২১ সালে
- ১৯২৬ সালে
- ১৯৪৩ সালে
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরনের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- ‘বীরবলী’ ভাষা তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে গৃহীত।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮) 'হপ্তপয়কর' কাব্যটির মূল রচয়িতা কে ছিলেন?
- ফেরদৌসী
- নিজামী
- ইউসুফ গাদা
- মালিক মুহাম্মদ জায়সী
• 'হপ্তপয়কর' গ্রন্থ:
- ‘হপ্তপয়কর’ সৈয়দ আলাওলের একটি বিখ্যাত অনুবাদমূলক আখ্যানকাব্য।
- গ্রন্থটি সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোন এক সময়ের রচনা।
- ফারসি সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি নিজামীর ‘হফত্ পয়কর’ কাব্যের অনুসরণে আলাওল এটি অনুবাদ করেন।
- রাজপুত্র বাহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তাঁর সংকলন।
- ফারসি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
-পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯) প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কী ছিল?
- তারাকুমার শৰ্মা
- হাবু শর্মা
- গৌড়কিশোর ঘোষ
- তারাকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম হাবু শর্মা।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চগ্রাম,
- রাধা ইত্যাদি।
তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।
• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১০) 'কল্লোল' পত্রিকা প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল?
- দীনেশরঞ্জন দাশ
- প্রেমেন্দ্র মিত্র
- দীনেশরঞ্জন সেন
- গোকুলচন্দ্র নাগ
• ‘কল্লোল’ পত্রিকা:
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সূচনালগ্নে এই পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত সামাজিক চেতনা এবং ইউরোপীয় সাহিত্য, বিশেষ করে ইংরেজি ও ফরাসি সাহিত্যের প্রভাব এই পত্রিকার লেখকদের উপর গভীরভাবে পড়েছিল।
- নতুন ধারা ও আধুনিক চিন্তাধারার সাহিত্যচর্চায় ‘কল্লোল’ একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একটি স্বতন্ত্র লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- এই গোষ্ঠী ‘কল্লোল গোষ্ঠী’ নামে পরিচিত।
- পরবর্তী প্রজন্মের আধুনিক লেখকদের উপর এই পত্রিকা ও গোষ্ঠীর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১১) বাংলা ভাষায় প্রথম রামায়ণ অনুবাদ করেন কে?
- মালাধর বসু
- কৃত্তিবাস ওঝা
- কাশীরাম দাস
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর
• রামায়ণ:
- রামচন্দ্রে কাহিনি এক হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল বলে মনে করা হয়।
- এ কাহিনি অবলম্বনে মহর্ষি বাল্মীকি আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে সংস্কৃত ভাষায় ‘রামায়ণ’ মহাকাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটি সাত খণ্ডে বিভক্ত।
- কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম সংস্কৃত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন, যা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে পরিচিত।
- মধুসুদন দত্ত রামায়ণের অংশ-বিশেষ অবলম্বনে তাঁর বিখ্যাত মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন।
- সংস্কৃত রামায়ণকে পৃথিবীর আদি মহাকাব্য বলা হয়।
• কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।
অন্যদিকে,
- 'মহাভারত' এর প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১২) ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতার রচয়িতা কে?
- জহির রায়হান
- হাসান হাফিজুর রহমান
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী
- আল মাহমুদ
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতার লেখক হলেন মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
• কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি:
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।
• মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী:
- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৩) 'দৃষ্টিহীন' কার ছদ্মনাম?
- সমরেশ বসু
- সমরেশ মজুমদার
- মধুসূদন মজুমদার
- মধুসূদন দত্ত
- 'দৃষ্টিহীন' হলো বিখ্যাত সাহিত্যিক মধুসূদন মজুমদার-এর ছদ্মনাম।
- আবার, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ছদ্মনামও ছিলো 'দৃষ্টিহীন'।
⇒ বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য কয়েকজন বিখ্যাত লেখকের ছদ্মনাম:
• টেকচাঁদ ঠাকুর: প্যারীচাঁদ মিত্র।
• ভোরের পাখি: বিহারীলাল চক্রবর্তী।
• টিমোথি পেনপোয়েম: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• বীরবল: প্রমথ চৌধুরী।
• যাযাবর: বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।
• ভানুসিংহ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪) কবি জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতম কবি' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন কে?
- বুদ্ধদেব বসু
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- প্রমথ চৌধুরী
- অমিয় চক্রবর্তী
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- তিনি বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, বি এম কলেজ থেকে আই.এ এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ ও ইংরেজিতে এম.এ পাস করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ঝরা পালক'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- বুদ্ধদেব বসু তাকে বলেছেন 'নির্জনতম কবি'।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
• জীবনানন্দ দাশের উপাধি:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতম কবি।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- কল্যাণী।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৫) 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্যটির পটভূমি কী?
- ভাষা আন্দোলন
- মুক্তিযুদ্ধ
- তেভাগা আন্দোলন
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাটক:
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাটক।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কাব্যনাট্য।
• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।
• তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৬) চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
- দ্বিজমাধব
- মানিক দত্ত
- কানাহরি দত্ত
• চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। এবং প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু,
ফুল্লরা,
ধনপতি,
ভাঁড়ুদত্ত,
মুরারি শীল প্রমুখ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে চর্যাপদের মোট পদ সংখ্যা কতটি?
- ৪৬টি
- ৫০টি
- ৫১টি
- ৫২টি
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন। ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৮) 'নীললোহিত' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
- প্রথম চৌধুরী
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন।
- নীললোহিত।
- নীল উপাধ্যায়;
- সনাতন পাঠক;
অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- যাযাবর।
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম - বীরবল।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
১৯) ‘দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকার সম্পাদক -
- কাজী নজরুল ইসলাম
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
- প্রমথ চৌধুরী
- দীনেশচন্দ্র সেন
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা:
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন।
অন্যদিকে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন 'পরিচয়' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
- প্রমথ চৌধুরী 'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০) ভাষা আন্দোলনভিত্তিক 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
- জেগে আছি
- মানচিত্র
- নরকে লাল গোলাপ
- জীবনজমিন
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।
স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:
স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
• তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ - জেগে আছি (১৯৫০)। যা একটি গল্পগ্রন্থ।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন,
উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি।
উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে কত সালে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে
- ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অলাতচক্র'-এর রচয়িতা কে?
- মাহমুদুল হক
- আহমদ ছফা
- শওকত আলী
- ইমদাদুল হক মিলন
• 'অলাতচক্র' উপন্যাস:
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- তায়েবা,
- দানিয়েল প্রমুখ।
অন্যদিকে,
• মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ‘খেলাঘর’।
• শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা'।
• ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'কালো ঘোড়া'।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত শিশু পত্রিকার নাম কী?
- আঙুর
- আলাপনী
- মুকুল
- শিশুসাথী
• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- পিতা মফিজউদ্দীন আহমদ ছিলেন পীর গোরাচাঁদের দরগাহর খাদেম।
- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক (১৯১১) ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি।
- তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
• তাঁর রচিত গবেষণা:
- সিদ্ধা কাহ্নপার গীত ও দোহা,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বৌদ্ধ মর্মবাদী গান,
- বাংলা ব্যাকরণ,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের সমস্যা,
- বাংলা আদব কি তারিখ,
- Essays of Islam: Traditional culture in East Pakistan.
• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ,
- 'অমিয় শতক,
- রুবাইয়াত ই ওমর খ্যায়াম।
• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস।
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি।
- পাক্ষিক তকবীর।
- মাসিক শিশু পত্রিকা ‘আঙুর'।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২৪) ‘কবিকন্ঠহার’ কোন কবির উপাধি?
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
- জ্ঞানদাস
- বিদ্যাপতি
- ভারতচন্দ্র রায়
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
• অন্যদিকে:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন ।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কবি ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দিয়েছেন।
- কবি ভারতচন্দ্র ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
২৫) "অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী" — প্রবাদটি চর্যাপদের কত নম্বর পদের অন্তর্গত?
- ১নং পদ
- ৬নং পদ
- ৩২নং পদ
- ৩৩নং পদ
• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি। এগুলো হলো:
- অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী( ভুসুকুপা, ৬নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা,৩৩নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।








