Exam - 2 বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য Topic: ব্যাকরণ অংশ: ১. সন্ধি, সমাস, পদ-প্রকরণ, কারক-বিভক্তি, প্রকৃতি-প্রত্যয়, বাক্যের শেণি বিভাগ। ২. সমার্থক শব্দ/প্রতিশব্দ, বিপরীতার্থক শব্দ, সাহিত্য অংশ: ১. কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধী (সকল যুগ), পত্রিকা, ভাষা-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্য এবং ২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
১) 'তিরোধান' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
- তির + ধান
- তিরো + ধান
- তিরঃ + ধান
- তিরস্ + ধান
• 'তিরোধান' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - 'তিরঃ + ধান'।
• বিসর্গসন্ধি দুইভাগে বিভক্ত।
- র-জাত বিসর্গ (প্রাতঃ > প্রাতর্),
- স-জাত বিসর্গ (নমঃ > নমস্)।
• বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- নমঃ + কার = নমস্কার,
- পুরঃ + কার = পুরস্কার,
- পদঃ + খলন = পদস্খলন,
- বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত,
- তপঃ + বন = তপোবন,
- মনঃ + হর = মনোহর
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক বিয়োগান্তক নাটক কোনটি?
- শর্মিষ্ঠা
- কৃষ্ণকুমারী
- ভদ্রার্জুন
- পদ্মাবতী
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক বিয়োগান্তক নাটক - 'কৃষ্ণকুমারী'।
• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক 'শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।
অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক - 'শর্মিষ্ঠা'।
• বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক - 'ভদ্রার্জুন'।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি নাটক - ‘পদ্মাবতী’।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩) 'ধামাধরা' কোন সমাসের উদাহরণ?
- অব্যয়ীভাব সমাস
- কর্মধারয় সমাস
- তৎপুরুষ সমাস
- বহুব্রীহি সমাস
• 'ধামাধরা' তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- এটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- ধামা ধরে যে = ধামাধরা,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ,
- জাদু করে যে = জাদুকর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪) 'অগ্নি-গিরি' কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের রচনা?
- নাটক
- কাব্য
- গল্প
- গীতি সংকলন
• 'অগ্নি-গিরি' গল্পটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'গল্প'।
- এটি তাঁর 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
• 'অগ্নি-গিরি' গল্প:
- কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিগিরি’ গল্পে বীররামপুর গ্রামের ধনী পাটব্যবসায়ী আলি নসিব মিয়াঁর আশ্রয়ে মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত দরিদ্র, শান্ত ও ধৈর্যশীল যুবক সবুর আখন্দের জীবনকাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- পাড়ার দুরন্ত ছেলে রুস্তমের নেতৃত্বে একদল কিশোর সবুরকে নিয়মিত ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও নানাভাবে উত্ত্যক্ত করলেও সে দীর্ঘদিন নীরবে সব নির্যাতন সহ্য করে। এভাবেই তার অসীম ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও অন্তর্নিহিত শক্তির পরিচয় ফুটে ওঠে।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সবুর আখন্দ, রুস্তম, আলি নসিব মিয়াঁ প্রমুখ।
• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।
- এই গ্রন্থের গল্পগুলো হলো: পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি, শিউলিমালা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; নজরুল রচনাবলী।
৫) 'সর্বাঙ্গীণ' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
- সর্বাঙ্গ + বিন
- সর্বাঙ্গ + নীন
- সর্ব + আঙ্গিন
- সর্বাঙ্গ + ইন্
• 'সর্বাঙ্গীণ' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - 'সর্বাঙ্গ + নীন'।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় - নীন (ঈন্):
- তৎসম্পর্কিত অর্থে বিশেষণ গঠনে।
যেমন:
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- সর্বাঙ্গ + নীন = সর্বাঙ্গীণ,
- নব + নীন = নবীন,
- অভ্যন্তর + নীন = অভ্যন্তরীণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬) 'অনুপম' ও 'কল্যাণী' কোন গল্পের চরিত্র?
- সমাপ্তি
- অপরিচিতা
- নষ্টনীড়
- দেনাপাওনা
• 'অনুপম' ও 'কল্যাণী' অপরিচিতা গল্পের চরিত্র।
• 'অপরিচিতা' ছোটগল্প:
- 'অপরিচিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প।
- গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকার ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪) কার্তিক সংখ্যায়।
- গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী।
- অমানবিক যৌতুক প্রথার নির্মম বলি হয়েছে এমন নারীদের গল্প ইতঃপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- কিন্তু এই গল্পেই প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতা শোনালেন তিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অনুপম ও কল্যাণী।
অন্যদিকে,
• ‘সমাপ্তি’ ছোটগল্পের চরিত্র - মৃন্ময়ী।
• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র - চারুলতা।
• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্পের চরিত্র - নিরুপমা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭) 'আকাশ' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
- অম্বু
- নীলাম্বু
- বলাহক
- অম্বর
• আকাশ এর সমার্থক শব্দ - 'অম্বর'।
• 'আকাশ' এর সমার্থক শব্দ:
- গগন, অন্তরিক্ষ, অম্বর, ব্যোম, আসমান, দ্যুলোক, শূন্য, নভঃ, নীলিমা, অনন্ত, সুরপথ, অম্বরতল, খগোল, নক্ষত্রলোক, নভোলোক, নভস্থল ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• 'পানি'-এর সমার্থক শব্দ - 'অম্বু'।
• 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ -' নীলাম্বু'।
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ - 'বলাহক'।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮) মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকে কেন্দ্র করে রচিত 'অলাতচক্র' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
- রশীদ হায়দার
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- আহমদ ছফা
- শহীদুল জহির
• মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকে কেন্দ্র করে রচিত 'অলাতচক্র' উপন্যাসের রচয়িতা - 'আহমদ ছফা'।
• 'অলাতচক্র' উপন্যাস:
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।
- পরে সেটি পরিমার্জন করে ১৯৯৩ সালে প্রায় নতুন করেই লেখেন।
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।
• আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অলাতচক্র,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- সূর্য তুমি সাথী,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস,
- বিহঙ্গ পুরাণ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯) 'ফুটেছে বাগানে আজ অজস্র গোলাপ।' - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে সপ্তমী
- করণে সপ্তমী
- অপাদানে সপ্তমী
- অধিকরণে সপ্তমী
• 'ফুটেছে বাগানে আজ অজস্র গোলাপ।' - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি।
- এখানে ‘বাগান’ হলো গোলাপ ফোটার স্থান বা আধার এবং ‘বাগান’ শব্দের সঙ্গে ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত হয়ে ‘বাগানে’ হয়েছে।
- তাই 'বাগানে' শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোনো বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।
- তৃতীয়া বিভক্তি: বড় রাস্তা দিয়ে যেও।
- পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
- সপ্তমী বা তে বিভক্তি: ফুটেছে বাগানে আজ অজস্র গোলাপ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০) 'সুনন্দ' কার সাহিত্যিক ছদ্মনাম?
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- বিমল ঘোষ
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
- বিমল মিত্র
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - 'সুনন্দ'।
অন্যদিকে,
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীল লোহিত, সনাতন পাঠক, নীল উপাধ্যায়।
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম - মৌমাছি।
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১১) ‘লেখাপড়া বিষয়ে তার যে গভীর অনুরাগ ছিল, একথা বলা যায় না।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
- জটিল বাক্য
- সরল বাক্য
- যৌগিক বাক্য
- খণ্ড বাক্য
• ‘লেখাপড়া বিষয়ে তার যে গভীর অনুরাগ ছিল, একথা বলা যায় না।’ - এটি জটিল বাক্য।
- বাক্যটিতে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য এবং একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য রয়েছে।
• আশ্রিত খণ্ডবাক্য: ‘লেখাপড়া বিষয়ে তার যে গভীর অনুরাগ ছিল’
• প্রধান খণ্ডবাক্য: ‘একথা বলা যায় না।’
- আশ্রিত খণ্ডবাক্যটি প্রধান খণ্ডবাক্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই এটি জটিল বাক্য।
• জটিল বাক্য:
- একটি প্রধান বাক্যের সঙ্গে অধীনস্থ এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোনো অনুসর্গী সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
- জটিল বাক্য গঠিত হয় প্রধান বা স্বাধীন বাক্য এবং এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য এর সংযোগে।
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে অধীন বাক্যগুলো যুক্ত হয়ে জটিল বাক্য গঠন করে।
• মিশ্র বা জটিল বাক্যের কিছু উদাহরণ:
- 'যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।'
- ‘যে পরিশ্রম করে, সেই সফলতা লাভ করে।’
- ‘যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমায় নেবে চিনে।’
- ‘যে ব্যক্তির মাথায় বুদ্ধি নেই, সে পরের সমালোচনায় উদ্ধত হয়।’
- ‘সবাই জানেন যে, কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না।’
- ‘লেখাপড়া বিষয়ে তার যে গভীর অনুরাগ ছিল, একথা বলা যায় না।’
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১২) 'পরুষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
- কোমল
- ভীরু
- কর্কশ
- সাহসী
• 'পরুষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - 'কোমল'।
- 'পরুষ' শব্দের অর্থ: কর্কশ; উগ্র; কঠোর।
- 'কোমল' শব্দের অর্থ: নরম; মধুর; মৃদু।
অন্যদিকে,
• 'সাহসী' এর বিপরীতার্থক শব্দ - 'ভীরু'।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, মাহবুবুল আলম।
১৩) 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
- ১৮৬৫ সাল
- ১৮৭২ সাল
- ১৮৭৮ সাল
- ১৮৮৩ সাল
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার প্রথম প্রকাশকাল - '১৮৭২ সাল'।
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- 'বঙ্গদর্শন' একটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- প্রথম পর্যায়ে পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।
• বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও এই পত্রিকায় অন্যান্য পণ্ডিতগণও নিয়মিত লিখতেন, এরা হলেন- গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৪) 'টাকাটা কার হাতে দিয়েছ?' - বাক্যে 'কার' কোন পদ?
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- অব্যয়
• 'টাকাটা কার হাতে দিয়েছ?' - বাক্যে 'কার' সর্বনাম পদ।
- এটি প্রশ্নবাচক সর্বনাম।
• প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
- প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
- এ জাতীয় সর্বনাম হলো: কে, কি, কারা, কাকে, কার, কী, কিসে ইত্যাদি।
যেমন:
- কী দিয়ে ভাত খায়?
- টাকাটা কার হাতে দিয়েছ?
- আপনি কাকে চান?
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৬ সংস্করণ)।
১৫) নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি বিষয়ক গল্পগ্রন্থ?
- অবেলায় অসময়
- বকুলপুরের স্বাধীনতা
- কি চাহ শঙ্খচিল
- জন্ম যদি তব বঙ্গে
• মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি বিষয়ক গল্পগ্রন্থ - 'জন্ম যদি তব বঙ্গে'।
• ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্পগ্রন্থ:
- এটি শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি বিষয়ক গল্পগ্রন্থ।
- গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের সামাজিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, যুবসমাজের নৈতিক অবনতি এবং সামগ্রিকভাবে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কে বিষয়বস্তু করে গ্রন্থটি রচিত।
- এই গল্পগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য গল্প: আলোক-অন্বেষা, বারুদের গন্ধ লোবানের ধোঁয়া, সারেঙ সুখানী, বার্তাবহ, জন্ম যদি তব বঙ্গে, রক্ত চিহ্ন, দুই ব্রিগেডিয়ার, ক্ষমাবতী, ভারতীয় গোয়েন্দা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• 'অবেলায় অসময়' - আমজাদ হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• 'বকুলপুরের স্বাধীনতা' ও 'কি চাহ শঙ্খচিল' - মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্পগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
- নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে
- জগদীশচন্দ্র বসুকে
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন - 'জগদীশচন্দ্র বসুকে'।
• 'খেয়া' (কাব্যগ্রন্থ):
- 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এই কাব্যগ্রন্থে ৫৫টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- এ সংকলনের কবিতাগুলির মধ্যে ক্লান্তি ও বিষাদের সুর প্রাধান্য পেয়েছে।
- গ্রন্থটি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করা হয়।
- কবিতাগুলোতে জীবনের ব্যথা-বেদনা ও বিচিত্র অনুভবের মধ্যে চরম শ্রেয়োলাভের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক কয়েকটি উৎসর্গকৃত গ্রন্থ:
• 'তাসের দেশ' নাটকটি উৎসর্গ করেন - নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
• 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন - ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে।
• 'বসন্ত' নাটকটি উৎসর্গ করেন - কাজী নজরুল ইসলামকে।
• 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন - জগদীশচন্দ্র বসুকে।
• 'কালের যাত্রা' নাটকটি উৎসর্গ করেন - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
• 'আকাশ-প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন - সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৭) 'কল্লোল' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন -
- অক্ষয়কুমার দত্ত
- দীনেশচন্দ্র সেন
- সঞ্জয় ভট্টাচার্য
- দীনেশরঞ্জন দাশ
• 'কল্লোল' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন- 'দীনেশরঞ্জন দাশ'।
• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ সালে প্রথম কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
অন্যদিকে,
• 'অক্ষয়কুমার দত্ত' সম্পাদিত পত্রিকা - তত্ত্ববোধিনী।
• 'সঞ্জয় ভট্টাচার্য' সম্পাদিত পত্রিকা - পূর্বাশা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৮) ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত 'কবর' নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কত সালে?
- ১৯৫৩ সালে
- ১৯৫৮ সালে
- ১৯৬৬ সালে
- ১৯৬৭ সালে
• ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত 'কবর' নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।
- নাটকটি রচিত হয় ১৯৫৩ সালে।
• 'কবর' নাটক:
- ‘কবর’ নাটকটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- ১৯৫৩ সালে জেলখানায় বন্দি থাকা অবস্থায় বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের জন্য মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ করেন।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতেই মুনীর চৌধুরী ‘কবর’ নাটক রচনা করেন।
- তিনি মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' নাটকের অনুসরণে 'কবর' নাটকটি রচনা করেন।
- ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের শাহীন বুক ক্লাব থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: হাফিজ ও মুর্দাফকির।
• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ই নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।
- তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ রাইটিং এর নাম 'মুনীর অপটিমা'।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ই ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।
• তাঁর রচিত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'কবর' নাটক; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৯) 'তথৈব' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
- তথা + ইব
- তথা + এব
- ততঃ + ইব
- ততো + এব
• 'তথৈব' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - 'তথা + এব'।
• সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- সর্ব + এব = সর্বৈব,
- সদা + এব = সদৈব,
- জন + এক = জনৈক,
- মত + ঐক্য = মতৈক্য,
- তথা + এব = তথৈব,
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০) মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ' কাব্যের নায়ক কে?
- বিভীষণ
- রাম
- রাবণ
- মেঘনাদ
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ' কাব্যের নায়ক - রাবণ।
• 'মেঘনাদবধ কাব্য':
- মাইকেল মধুসুদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- এটি মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
২১) বাংলা সাহিত্যে 'দুঃখবাদী কবি' বলা হয় কাকে?
- মোজাম্মেল হক
- যতীন্দ্রমোহন বাগচী
- হাসন রাজা
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
• বাংলা সাহিত্যে 'দুঃখবাদী কবি' - 'যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত'।
• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত:
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
- রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।
- দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন "দুঃখবাদী কবি" আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর।
- প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন।
অন্যদিকে,
• মোজাম্মেল হককে বলা হয় - শান্তিপুরের কবি।
• হাসন রাজাকে বলা হয় - মরমি কবি।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২২) 'বাহুলতা' কোন সমাস?
- দ্বিগু
- উপমিত কর্মধারয়
- উপপদ তৎপুরুষ
- সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
• 'বাহুলতা' উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- এর ব্যাসবাক্য: বাহু লতার ন্যায়।
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ,
- নর সিংহের ন্যায় = নরসিংহ,
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩) ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আর্তনাদ’ এর লেখক কে?
- শওকত আলী
- সেলিনা হোসেন
- শওকত ওসমান
- রাবেয়া খাতুন
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আর্তনাদ’ এর লেখক - 'শওকত ওসমান'।
• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের ‘আর্তনাদ’ উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি একুশের চেতনা ও বাঙালির ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
- উপন্যাসটির পটভূমি মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন।
- উপন্যাসের সময়কাল ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের সময়কাল থেকে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
- উপন্যাসে আলী জাফর নামে এক কেরানির আত্মত্যাগের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ মে মৃত্যুবরণ করেন ।
• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; 'আর্তনাদ' উপন্যাস।
২৪) 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
- শিখণ্ডী
- মাতঙ্গ
- কেশরী
- ভুজঙ্গ
• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ - 'মাতঙ্গ'।
• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরদ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• শিখণ্ডী - ময়ূর এর সমার্থক শব্দ।
• কেশরী - সিংহ এর সমার্থক শব্দ।
• ভুজঙ্গ - সাপ এর সমার্থক শব্দ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৫) 'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
- সর্বহারা
- সন্ধ্যা
- জিঞ্জির
- সিন্ধু-হিন্দোল
• 'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!' কবিতাটি 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এই কবিতার প্রেক্ষাপট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
- কাজী নজরুল ইসলাম
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার,
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুঁশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার!! (সংক্ষিপ্ত)
• 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা: সর্বহারা, কৃষাণের গান, শ্রমিকের গান, ধীবরের গান, ছাত্রদলের গান, কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!, আমার কৈফিয়ৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ।
২৬) 'স্মারক' কোন প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
- বাংলা কৃৎ
- বাংলা তদ্ধিত
- সংস্কৃত কৃৎ
- সংস্কৃত তদ্ধিত
• 'স্মারক' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: √স্মৃ + অক।
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় 'ণক' ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে):
- মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়।
যেমন:
- √কৃ + অক = কারক,
- √লিখ + অক = লেখক,
- √নী + অক = নায়ক,
- √চল্ + অক = চালক,
- √স্মৃ + অক = স্মারক ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭) 'সব ঝিনুকে মুক্তা মিলে না।' - বাক্যে 'ঝিনুকে' কোন কারক?
- কর্তৃ কারক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক
• 'সব ঝিনুকে মুক্তা মিলে না।' - বাক্যে 'ঝিনুকে' শব্দটি অপাদান কারক।
- কারণ, ঝিনুক থেকে মুক্তা পাওয়া যায়; অর্থাৎ এখানে ‘ঝিনুক’ শব্দটি মুক্তা প্রাপ্তির উৎস নির্দেশ করেছে।
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বিভক্তি: গাড়ি ঢাকা ছাড়ল।
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
• পঞ্চমী বিভক্তি: শুক্রবার থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: ফুলের গন্ধে বাগান ভরে আছে।
• সপ্তমী বিভক্তি: সব ঝিনুকে মুক্তা মিলে না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮) 'কাঁদো কাঁদো চেহারা।' - এখানে 'কাঁদো কাঁদো' কোন ধরনের বিশেষণ?
- বিশেষ্যজাত বিশেষণ
- ধ্বন্যাত্মকজাত বিশেষণ
- সর্বনামজাত বিশেষণ
- ক্রিয়াজাত বিশেষণ
• 'কাঁদো কাঁদো চেহারা।' - এখানে 'কাঁদো কাঁদো' ক্রিয়াজাত বিশেষণ।
• ক্রিয়াজাত বিশেষণ:
- যে বিশেষণ ক্রিয়া পদ থেকে সৃষ্টি হয় তাকে ক্রিয়াজাত বিশেষণ বলে। ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যোগ হয়ে এ ধরনের বিশেষণ গঠিত হয়। এ ধরনের বিশেষণকে কৃদন্ত পদ বলা হয়।
যেমন: জ্বলন্ত আগুন, চলন্ত ট্রেন, পঠিত বই, কাঁদো কাঁদো চেহারা, হারিয়ে যাওয়া সম্পদ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• বিশেষ্যজাত বিশেষণ:
- যে বিশেষণ বিশেষ্য পদ থেকে সৃষ্টি হয় তাকে বিশেষ্যজাত বিশেষণ বলে।
যেমন: দেশীয় সম্পদ, সোনালি আকাশ, মেঘলা আকাশ।
• ধ্বন্যাত্মকজাত বিশেষণ:
- যে বিশেষণ ধ্বন্যাত্মক শব্দ থেকে সৃষ্টি হয় তাকে ধ্বন্যাত্মকজাত বিশেষণ বলে।
যেমন: রাশি রাশি ধান, লাল লাল ফুল ইত্যাদি।
• সর্বনামজাত বিশেষণ:
- যে বিশেষণ সর্বনাম পদ থেকে সৃষ্টি হয় তাকে সর্বনামজাত বিশেষণ বলে।
যেমন: কবেকার কথা, কোথাকার লোক, স্বীয় উদ্যোগ, তদীয় সম্পত্তি।
- কিছু কিছু সর্বনাম শব্দ বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য লোক, কত দিন ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ।
২৯) নিচের কোন বিপরীতার্থক শব্দ-যুগলটি সঠিক নয়?
- সৌম্য-উগ্র
- কৃশ-ক্ষীণ
- তাপ-শৈত্য
- খাতক-মহাজন
• সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ-যুগল নয়: 'কৃশ-ক্ষীণ'।
- এর সঠিক রূপ: কৃশ-স্থূল।
- 'কৃশ' শব্দের অর্থ: রোগ্য, শীর্ণ, ক্ষীণ, দুর্বল।
- 'স্থূল' শব্দের অর্থ: মেদবহুল, পুরু, প্রকাণ্ড।
অন্যদিকে,
• সৌম্য-উগ্র।
• তাপ-শৈত্য।
• খাতক-মহাজন।
- এগুলো সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, মাহবুবুল আলম।
৩০) নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
- উদয় হওয়া
- ভাঙন ধরা
- এগিয়ে চলা
- পকেট মারা
• যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ - 'এগিয়ে চলা'।
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: এগিয়ে চলা, মরে যাওয়া, কমে আসা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, বুঝে নেওয়া, চেপে রাখা, বলে ফেলা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন: গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা, সাঁতার কাটা, কথা দেওয়া, ভাঙন ধরা, বৃদ্ধি পাওয়া, মার খাওয়া, আছাড় খাওয়া, পকেট মারা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৬ সংস্করণ)।
৩১) ‘ঘোড়দৌড়’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
- ঘোড়াঃ + গাড়ি
- ঘোড় + গাড়ি
- ঘোড়ঃ + গাড়ি
- ঘোড়া + গাড়ি
প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
---------
সন্ধির নিয়ম:
- স্বরধ্বনির পরে ব্যঞ্জনধ্বনি এলে স্বরধ্বনিটি লুপ্ত হয়।
যেমন:
- কাঁচা + কলা = কাঁচকলা,
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- ঘোড়া + দৌড় = ঘোড়দৌড়,
- ঘোড়া + গাড়ি = ঘোড়গাড়ি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২) নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
- হাতেখড়ি
- দশগজি
- গোঁফখেজুরে
- নীলকণ্ঠ
• ‘হাতেখড়ি’ - মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস; হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।
অন্যদিকে,
• ‘দশগজি’ - সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস; দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি।
• ‘গোঁফখেজুরে’ - ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
• ‘নীলকণ্ঠ’ - সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস; নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ।
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।
এমনিভাবে - গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩) কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
- ক্ষুৎপিপাসা
- শান্তশিষ্ট
- গৃহান্তর
- বউভাত
• ‘অন্য গৃহ = গৃহান্তর’ - নিত্য সমাসের উদাহরণ।
অন্যদিকে,
• ‘ক্ষুৎপিপাসা’ - দ্বন্দ্ব সমাস; ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
• ‘বউভাত’ - বহুব্রীহি সমাস; বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত
• ‘শান্তশিষ্ট’ - কর্মধারয় সমাস; যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩৪) নিচের কোনটি নাম-বিশেষ্যের উদাহরণ?
- সুন্দর
- হিমালয়
- পঞ্চায়েত
- নদী
• ‘হিমালয়’ - নাম-বিশেষ্য; এটি একটি নির্দিষ্ট স্থানের নাম।
অন্যদিকে,
• ‘সুন্দর’ - বিশেষণ।
• ‘পঞ্চায়েত’ - সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
• ‘নদী’ - জাতিবাচক বিশেষ্য।
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: বাংলাদেশ, ঢাকা, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫) চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে। - এখানে নিম্নরেখে অংশটি কোন কারক?
- কর্তা
- কর্ম
- করণ
- অপাদান
• ‘কাস্তে দিয়ে’ — এখানে কাস্তে ধান কাটার উপকরণ বা মাধ্যম। ক্রিয়া সম্পাদনের উপকরণ বা মাধ্যমকে করণ কারক বলে। তাই ‘কাস্তে দিয়ে’ করণ কারক।
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা”, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)
৩৬) 'গিন্নীপনা' - শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
- বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- খবর + দার = খবরদার;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭) আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ বা প্রার্থনা বোঝাতে যে বাক্য ব্যবহৃত হয়, তাকে কী বলে?
- আবেগসূচক বাক্য
- প্রশ্নবোধক বাক্য
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
- বিবৃতিমূলক বাক্য
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।
অন্যদিকে,
• আবেগসূচক বাক্য — যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য।
• প্রশ্নবোধক বাক্য — বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
• বিবৃতিমূলক বাক্য — সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮) নিচের কোন জোড়াটি সঠিক?
- বিপিন-বন
- পঙ্কজ -বৃক্ষ
- দ্রুম-পদ্ম
- অটবী-বৃক্ষ
• ‘বিপিন-বন’ — সঠিক জোড়া; ‘বিপিন’ শব্দের অর্থ বন।
অন্যদিকে,
• ‘পঙ্কজ’ — ‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক।
• ‘দ্রুম’ — ‘বৃক্ষ’ শব্দের সমার্থক।
• ‘অটবী’ — ‘বন’ শব্দের সমার্থক।
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।
'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।
'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯) 'সংহত' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
- হর্ষ
- একতাবদ্ধ
- সংকুচিত
- বিভক্ত
• 'সংহত' শব্দের বিপরীত শব্দ - বিভক্ত।
অন্যদিকে,
- 'সংহত' শব্দের অর্থ - একতাবদ্ধ, সুদৃঢ়।
- 'বিভক্ত' শব্দের অর্থ - ভাগ করা হয়েছে এমন।
অন্যদিকে,
• 'হর্ষ' শব্দের বিপরীত শব্দ - বিষাদ।
• 'প্রসারিত' শব্দের বিপরীত শব্দ - সংকুচিত।
উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪০) নিচের কোনটি ‘অগ্নি’ শব্দের সমার্থক?
- সুধাংশু
- বৈশ্বানর
- আদিত্য
- বিভাবসু
• ‘বৈশ্বানর’ — ‘অগ্নি’ শব্দের সমার্থক।
অন্যদিকে,
• ‘সুধাংশু’ — ‘চাঁদ’ শব্দের সমার্থক।
• ‘আদিত্য’ এবং 'বিভাবসু' — ‘সূর্য’ শব্দের সমার্থক।
'অগ্নি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, বিশ্বপা, সর্বশুচি, হিমারাতি, বায়ুসখ, অনিলসখ, জগন্নু, সর্বভুক ইত্যাদি।
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।
'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- চন্দ্র, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, বিধু, সোম, নিশাকর, সুধাংশু, সুধাকর, ইন্দু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।








