Exam - 1 বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য Topic: ব্যাকরণ অংশ: ১. ভাষা ও লিপি, ধ্বনি, শব্দ, ধ্বনি পরিবর্তন, শব্দের উচ্চারণ, লিঙ্গ, দ্বিরুক্ত শব্দ, যুক্তবর্ণ, শব্দ ও পদের গঠন, শব্দের উৎস, শব্দের শ্রেণি বিভাগ। ২. বাগ্ধারা ও প্রবাদ-প্রবচন। সাহিত্য অংশ: ১. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগ (গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ও তাদের সাহিত্যকর্ম)।
১) নিচের কোনটি অর্ধস্বরধ্বনি নয়?
- ই
- আ
- উ
- এ
• ‘আ’ অর্ধস্বরধ্বনি নয়; এটি পূর্ণস্বরধ্বনি।
অন্যদিকে,
• অর্ধস্বরধ্বনির উদাহরণ - ‘ই’, ‘উ’, ‘এ’।
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না, সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি।
যথা- [ই্], [উ্], [এ্] এবং [ও্]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন:
- ‘চাই” শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্]।
এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) পর্তুগিজ ভাষার শব্দ কোনটি?
- তোপ
- চাকু
- কামরা
- মুচলেকা
• কামরা - পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- কক্ষ, কুঠুরি, ঘর।
অন্যদিকে,
• ‘তুর্কি’ ভাষার শব্দ - তোপ, চাকু, মুচলেকা।
পর্তুগিজ ভাষার শব্দ:
- গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, পাউরুটি, পাদ্রি, পেয়ারা, বালতি, বোতল, বোতাম ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার উন্মেষ ঘটে কোন শতাব্দীতে?
- সপ্তম শতাব্দী
- নবম শতাব্দী
- অষ্টম শতাব্দী
- দশম শতাব্দী
বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-বংশের অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত বাংলা একটি নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা।।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে। তাঁর মতে বাংলা ভাষার উন্মেষ ঘটে দশম শতাব্দীতে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরূপীর মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে। এবং ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উন্মেষ ঘটে সপ্তম শতাব্দীতে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪) ‘সালাম’ শব্দের ‘স’ কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি?
- দন্ত্য
- মূর্ধন্য
- দন্তমূলীয়
- তালব্য
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫) নিচের কোন যুক্তবর্ণটি সঠিক?
- হ্ + ম = হ্ন
- ন্ + দ =ন্ধ
- হ্ + ম = ক্ষ্ম
- ণ্ + ড = ণ্ড
• ণ্ + ড = ণ্ড - যুক্তবর্ণটি সঠিক
অন্যদিকে,
• ‘হ্ন’ - হ্ + ন = হ্ন।
• ‘হ্ম’ - হ্ + ম = হ্ম।
• ‘ন্ধ’ - ন্ + ধ = ন্ধ।
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬) ‘আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।’ — এখানে ‘জ্বর জ্বর’ কোন অর্থ প্রকাশ করেছে?
- ভাবের গভীরতা
- সামান্য
- অনুভূতি
- আধিক্য
• বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
যেমন:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৭) ‘অল্পসল্প’ - শব্দটি কোন উপায়ে গঠিত?
- দ্বিরুক্তি
- সমাস
- প্রত্যয়
- সন্ধি
• ‘অল্পসল্প’ 'দ্বিরুক্তি' যোগে গঠিত শব্দ।
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- অঙ্ক-টঙ্ক, অল্পসল্প, কেক-টেক, কচর-মচর, চাকর-বাকর, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, আগড়ম-বাগড়ম, এলোমেলো, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৮) নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
- গোলাপী
- দেশি
- ভাইয়ে
- গোলাপ
মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।
অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ) এবং বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯) 'ডাকাবুকো' বাগ্ধারাটির অর্থ কী?
- সীমাবদ্ধ জ্ঞান
- অহংকার
- নির্ভীক
- ভণ্ড
• 'ডাকাবুকো' বাগ্ধারাটির অর্থ - নির্ভীক।
অন্যদিকে,
• 'কূপমণ্ডূক' বাগ্ধারাটির অর্থ - সীমাবদ্ধ জ্ঞান।
• 'পায়া ভারি' বাগ্ধারাটির অর্থ - অহংকার।
• 'বকধার্মিক' বাগ্ধারাটির অর্থ - ভণ্ড।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০) ‘ঞ্জ’ যুক্তবর্ণটি কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
- ঞ্ + জ
- জ্ + ঞ
- ঞ্ + চ
- ন্ + জ
• ‘ঞ্জ’ যুক্তবর্ণটি 'ঞ্ + জ' বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।
অন্যদিকে,
• ‘ঞ্চ’ - ঞ্ + চ = ঞ্চ।
• ‘জ্ঞ’ - জ্ + ঞ = জ্ঞ।
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড,
- ত্ + র = ত্র,
- দ্ + ধ = দ্ধ,
- শ্ + ঊ = শু।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১) 'মিঠা > মিঠে' - কোন স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
- অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
- চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
- পরাগত স্বরসঙ্গতি
- মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
যেমন:
- গিলা > গেলা,
- মিলামিশা > মেলামেশা,
- মিঠা > মিঠে,
- ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
- আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মোজা > মুজো।
পরাগত স্বরসঙ্গতি:
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
- আখো > আখুয়া > এখো,
- দেশি > দিশি।
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
- বিলাতি > বিলিতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২) কোনটি পত্নী অর্থে নারীবাচক শব্দ?
- ছাত্রী
- আয়া
- ননদ
- তেজস্বী
• 'ননদ'- পত্নী অর্থে নারীবাচক শব্দ। এর পুরুষবাচক শব্দ - নন্দাই।
পত্নীবাচক:
- স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন: পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, জেলে-জেলেনি, গুরু-গুরুপত্নী, নন্দাই-ননদ ইত্যাদি।
অপত্নীবাচক:
- স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন: খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী, পাগল-পাগলি, তেজস্ব-তেজস্বী, বালক-বালিকা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- 'ছাত্র' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - ছাত্রী।
- 'খানসামা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - আয়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৩) যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাকে কী বলে?
- রূঢ়ি শব্দ
- যৌগিক শব্দ
- যোগরূঢ় শব্দ
- মৌলিক শব্দ
যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- মিতালি = মিতা + আলি; যার অর্থ - সখ্য, বন্ধুত্ব, বন্ধুতা।
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত।
- মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪) ‘বঙ্গবাণী’ - কবিতার রচয়িতা কে?
- আবদুল হাকিম
- আবদুল করিম
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- শাহ মুহম্মদ সগীর
• ‘বঙ্গবাণী’ কবিতার রচয়িতা - আবদুল হাকিম।
- ‘বঙ্গবাণী’ কবিতাটি তাঁর ‘নূরনামা’ কাব্যের অন্তর্গত।
বঙ্গবাণী
– আবদুল হাকিম
কিতাব পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস।
সে সবে কহিল মোতে মনে হাবিলাষ।।
তে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন।
নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন।।
আরবি ফারসি শাস্ত্রে নাই কোন রাগ।
দেশী ভাষে বুঝিতে ললাটে পুরে ভাগ।।
আবদুল হাকিম:
- আবদুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৫) ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ — প্রবাদটির অর্থ কোনটি?
- আয়ত্তবহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া
- নিশ্চিত সাফল্য হাতছাড়া করে দেওয়া
- ঝামেলার ওপর ঝামেলা
- বয়স্কদের চেয়ে ছোটদের গুরুত্ব বেশি হওয়া
• ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ প্রবাদটির অর্থ - ঝামেলার ওপর ঝামেলা।
অন্যদিকে,
• ‘বেল পাকলে কাকের কী’ প্রবাদটির অর্থ - আয়ত্তবহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া।
• ‘বাড়া ভাতে ছাই দেওয়া’ প্রবাদটির অর্থ - নিশ্চিত সাফল্য হাতছাড়া করে দেওয়া।
• ‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়’ প্রবাদটির অর্থ - বয়স্কদের চেয়ে ছোটদের গুরুত্ব বেশি হওয়া।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬) শাহ মুহম্মদ সগীর কার সভাকবি ছিলেন?
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ
- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪-এর শেষে থকে ১৫ শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর রচিত ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।
- এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়।
- মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭) ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ কোনটি?
- বউদিদি > বউদি
- করিয়া > করে
- ধােবা > ধােপা
- ফলাহার > ফলার
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ - বউদিদি > বউদি।
• অভিশ্রুতির উদাহরণ - করিয়া > করে।
• অন্তর্হতির উদাহরণ - ফলাহার > ফলার।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮) 'সৌজন্য' - শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
- শোউ্জোন্নোঁ
- শোজোন্নো
- শোউজোন্ন
- শোউ্জোন্নো
• 'সৌজন্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ - শোউ্জোন্নো।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
-সুজনের ভাব বা আচরণ, সদাচরণ, ভদ্রতা, শিষ্টাচার।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯) 'অজুহাত' - কোন ভাষার শব্দ?
- হিন্দি
- ফারসি
- খাঁটি বাংলা
- আরবি
• "অজুহাত" শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- ছুতা, বাহানা, অসিলা; ওজর।
কিছু আরবি শব্দ:
- আদালত, এলাকা, এলাহি, কয়েদ, কসাই, কসরত, খারাবি, খারাপ, খারিজ, খাসলত, খালাস, খাসদখল, খাসমহল, খাসলত, তুফান, তকদির ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০) নিচের কোনটি কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ?
- ঞ
- ঙ
- ম
- ণ
• কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ - ঙ।
অন্যদিকে,
• তালব্য বর্ণ - ঞ।
• ওষ্ঠ্য বর্ণ - ম।
• মূর্ধন্য বর্ণ - ণ।
• উচ্চারণস্থান অনুসারে বর্ণের নাম:
যেমন:
• কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ: অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।
• তালব্য বর্ণ: ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, য়, শ।
• ওষ্ঠ্য বর্ণ: উ, ঊ, প, ফ, ব, ভ, ম।
• মূর্ধন্য বর্ণ: ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২১) 'গোবর গণেশ' - বাগ্ধারার অর্থ কোনটি?
- অপদার্থ
- সৌভাগ্য
- ভাবনাচিন্তাহীন
- অসম্ভব ব্যাপার
• ‘গোবর গণেশ’ বাগ্ধারার অর্থ - অপদার্থ।
অন্যদিকে,
• ‘ব্যাঙের সর্দি’ বাগ্ধারার অর্থ - অসম্ভব ব্যাপার।
• ‘খোদার খাসি’ বাগ্ধারার অর্থ - ভাবনাচিন্তাহীন।
• ‘পোয়া বারো’ বাগ্ধারার অর্থ - সৌভাগ্য।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২) চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ করেন কে?
- কীর্তিচন্দ্র
- মুনিদত্ত
- প্রবোধচন্দ্র বাগচী
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। এতে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৩) ‘রাষ্ট্রপতি’ - কোন ধরনের শব্দ?
- নিত্য স্ত্রীবাচক
- উভয়লিঙ্গ
- ক্লীবলিঙ্গ
- নিত্য পুরুষবাচক
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কতগুলো শব্দে কেবল পুরুষ বোঝায় সেগুলোকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
- কবিরাজ,
- যোদ্ধা,
- সেনাপতি,
- দলপতি,
- ঢাকী,
- কৃতদার,
- রাষ্ট্রপতি,
- বিচারপতি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪) ‘চাবাগান’ শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত?
- দ্বিরুক্তি
- প্রত্যয়
- সন্ধি
- সমাস
• ‘চাবাগান’ শব্দটি 'সমাস' প্রক্রিয়ায় গঠিত।
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫) চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কে?
- লুইপা
- শবরপা
- কাহ্নপা
- ভুসুকুপা
• ‘কাহ্নপা’ - চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা; তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
অন্যদিকে,
• ‘লুইপা’ - চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
• ‘শবরপা’ - চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নং পদ রচনা করেন।
• ‘ভুসুকুপা’ - চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বাধিক ৮টি পদ রচনা করেন।
কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৬) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ - এর ভাষাকে কী বলেছেন?
- Hybrid Bengali
- Mixed Prakrit
- Dog Sanskrit
- Buddhist Sanskrit
সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ূধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল- সেক শুভোদয়া। এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য। গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'Dog Sanskrit' বলেছেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২৭) নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
- ভেউ ভেউ
- গুনগুন
- আবোলতাবোল
- খক খক
অনুকার দ্বিত্ব:
- শব্দের অনুকরণে বা বিকারে যেসব শব্দের সৃষ্টি হয়, তাকে অনুকার শব্দ বলে। অনুকার শব্দ ধ্বন্যাত্মক শব্দেরই রকমফের মাত্র।
যেমন:
- আবোলতাবোল,
- কাপড়চোপড়,
- খাবারদাবার,
- গোছগাছ,
- চোটপাট,
- জড়সড় ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ - ‘ভেউ ভেউ’, ‘গুনগুন’, ‘খক খক’।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৮) ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
- ১৯২১ সালে
- ১৯১৬ সালে
- ১৯২৩ সালে
- ১৯২৬ সালে
• ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে চন্দ্রকুমার দে পালাগানগুলো সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত পালাগানগুলো সম্পাদনা করে দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২৩ সালে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২৯) যোগরূঢ় শব্দের উদাহরণ কোনটি?
- জলধি
- কর্তব্য
- বাবুয়ানা
- হস্তী
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে
যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে,
- যৌগিক শব্দ: কর্তব্য, বাবুয়ানা।
- রূঢ়ি শব্দ: হস্তী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০) ‘পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে’ — প্রবাদটির অর্থ কোনটি?
- অভাবী মানুষের কোনো জিনিসের প্রতি কপট অনীহা প্রকাশ
- বিপদে পড়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করা
- অসৎ পথের উপার্জন অকাজে ব্যয় হয়
- অভিজ্ঞতা বা প্রবীণত্বের মূল্য বেশি
• ‘পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে’ প্রবাদটির অর্থ - বিপদে পড়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করা।
অন্যদিকে,
• ‘পায় না তাই খায় না’ প্রবাদটির অর্থ - অভাবী মানুষের কোনো জিনিসের প্রতি কপট অনীহা প্রকাশ।
• ‘পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তে যায়’ প্রবাদটির অর্থ - অসৎ পথের উপার্জন অকাজে ব্যয় হয়।
• ‘পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে’ প্রবাদটির অর্থ - অভিজ্ঞতা বা প্রবীণত্বের মূল্য বেশি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।








